গৌরনদী
গৌরনদীতে বিএনপি নেতার উপর হামলা, অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজিও সমাজবিরোধী কার্যক্রলাপে বাধা দেয়ায় কতিপয় যুবদল ছাত্রদল নেতাকর্মিরা মঙ্গলবার ও সোমবার রাতে দুই দফা হামলা চালিয়ে বিএনপি নেতা ও তার তিন সহযোগীকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় হামলা কারীরা বিএনপির একিট কার্যালয় ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করেছে। আহত বিএনপি নেতা তার এক সমর্থককে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা সোমবার রাতেই মিজানুর রহমান মিন্টুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় লোকজন ও আহতরা জানান, গত জুলাই বিপ্লবের পরে বার্থী ইউনিয়নে মাদক, চাঁদাবাজিসহ সমাজ বিরোধী কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। এ নিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোঃ মিজানুর রহমান মিন্টু (৪৫) ও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম জুয়েলের (৩০) মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই বিপ্লব (৫ আগষ্টের) পরে বার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা সহিদুল ইসলাম জুয়েল নিজেই যুবদল ও ছাত্রদলের কতিপয় নেতাকর্মি নিয়ে মাদক সিন্ডিকেট তৈরী করে মাদক ব্যবসা চাঁদাবাজি ও সমাজ বিরোদী কার্যকলাপ করে আসছে। আমি তাতে বাধা দেয়ায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার বিকেল ৪টায় বার্থী বাজার বিএনপি অফিসের সামনে এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জুয়েলের নেতৃত্বে আমাকে লাঞ্চিত করে বিএনপি অফিস ভাঙচুর করে। আমি গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম ও সদস্য সচিব জহির সাজ্জাত হান্নানকে বিষয়টি অবহিত করলে তারা দুজনে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বার্থী বাজারে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে যুবদল নেতা জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলার দুই নেতার সামনে হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার সমর্থক বিএনপি কর্মি মজিবর রহমানের উপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করেছ। রাতেই আহত দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মিন্টুর সমর্থক বিএনপি নেতা মিজান সরদার (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, আমি মঙ্গলবার দুপুরে বাজারে আসলে যুবদল নেতা জুয়েল সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্থী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মাদক কিংবা সমাজ বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত নই। মিজানুর রহমান মিন্টুই এলাকায় দখল চাদাবাজিসহ মাদক কারবারিকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেন।
গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব তাদের সামনে বিএনপি নেতার উপর হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে মাদকের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হলে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, হামলা ভাঙচুরের কথা শুনেছি তবে থানায় কোন পক্ষ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


