গৌরনদী
দুই দশকে সংস্কার না হওয়ায় কাঁচা সড়কে রুপান্তর, জনদূর্ভোগ চরমে
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবা দুত কুমার মল্লিক শাহ মাজার হইতে বাঙ্গিলা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটর সড়কটি দীর্ঘ ২০ বছরে সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দের পাশাপাশি অনেকাংশ কাঁচা সড়কে পরিনত হয়েছ্।ে এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক ভেঙ্গে পুকুরে মিশে গেছে এবং মাটির সড়কে পরিনত হয়েছে। গত ১০ বছর যাবত সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ৫ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষকে । জরুরী ভিত্তিতে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজন, ভূক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০০০-২০০১ইং অর্থ বছরে গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের কসবা দূত কুমার মল্লিক শাহ মাজার হইতে বাঙ্গিলা ভায়া রামসিদ্ধি বাজার ৬ কিলো মিটার সড়কচির মাজার থেকে বার্থী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি পর্যন্ত কার্পেটিং করা হয়। গত ২০ বছরে সড়কটিতে কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দ পরিনত হয়ে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। কোথায়ও কোথায়ও বড় বড় গর্ভের সৃষ্টি হয়েছে ফলে জনদূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল, বাঙ্গিলা, রামসিদ্ধি, ধানডোবা ও রাজাপুর গ্রামের প্রায় ২৫ সাধারন মানুষকে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির মাজার থেকে রামসিদ্ধি বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পুরাটাই থানাখন্দে ভরপুর। সড়কটির পিচ-পাথর উঠে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রামসিদ্ধি বাজার থেকে বাঙ্গিল গ্রামের সিমান্ত পর্যন্ত কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। রামসিদ্ধি বাজারের পশ্চিম দিকে সড়ক ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে। তার পশ্চিমে বিএনপি বাজার পর্যন্ত মাটির সড়কে পরিনত হয়েছে। এই অংশে বোঝার উপায় নেই এটি কার্পেটিং সড়ক ছিল। বলতে গেলে পুরে সড়কটিতে চলঅচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এক সময় সড়কটিতে ছোট মাঝারি যানবাহন চলাচল করলে বর্তমানে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। কিছু কিছু রিকসা ভ্যান চলাচল করলেও তাদের নানান দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের শেষ অংশে অংশের আধা কিলোমিটার জায়গা কর্দমাক্ত ভরপুর। এই অংশের দুইপাশে পুকুর থাকায় অত্যাধিক ঝুকি নিয়ে ধুরিয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে থাকে।
এ সময় স্থানীয়রা জানান, কসবা মাজার থেকে বাঙ্গিলা ভায়া রামসিদ্ধি সড়কটি দিয়ে গৌরনদীর রামসিদ্ধি, বাঙ্গিলা, ধরিয়াইল, ধানডোবা রাজাপুর গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এ ছাড়া বিএনপি বাজার ও রাজাপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল পরিবহন করে। সড়কটি ব্যবহার করে ধুরিয়াইল ও বাঙ্গিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঙ্গিলা নুরানী মাদ্রসায় শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সড়কে ছোট মাঝারি যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ধরিয়াইল গ্রামের হেদায়েতুল ইসলাম (৩৮) বলেন, সড়কটি নির্মানের পর ২০ বছর অতিবাহিত হলেও আজ পর্যন্ত কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। ফলে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ-পাথর উঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারে অভাবে সড়কের রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে। কোটি টাকা ব্যায়ে সড়কটি নির্মান করার পরে২০ বছরে সংস্কারের অভাবে জনগুরুত্বপূর্ন সড়কটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে অথচ দেখার কেউ নেই। ধুরিয়াইল গ্রামের শিল্পি বেগম (৩৫) বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ দৈনন্দিন কাজকর্ম, ব্যবসায়ীক কাজ ও প্রশাসনিক কাজে জেলা উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। গত ১০ বছর ধরে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সড়কে যান চলঅচল বন্ধ হওয়ায় অনেক মূমূর্ষ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না ফলে রোগীর মৃত্যু হয়। বাঙ্গিলা বিএনপি বাজারের ব্যবসায়ী মালঅমাল চেয়ার¤্রানের বাড়ির সামনে পর্যন্ত ভ্যানযোগে আনলেও পরবর্তিতে মাথায় করে পরিবহন করতে হয়। এতে খরচ বেশী পড়ে যাওয়ায় ব্যভসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।
ফারুক হোসেন (৫৫)সহ কয়েকজন বলেন, সড়ক নষ্ট হওয়া শুরু হলে আমরা গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে অবহিত করে সংস্কারে জন্য অনুরোধ করেছি কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এলজিইডি কর্মকর্তাদের গাফলতি ও অবহেলার কারনে কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সড়কটি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনো উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি সংস্কার করা হলে সাধারন মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব।
বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের ৭.৮.৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মিনু বেগম (৪০) বলেন, সড়কটির দুরাবস্থার কথা জানিয়ে সড়কটি সংস্কারে জন্য অসংক্যবার উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও তারা কোন ভ্রæক্ষেপ বা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। তাদের গাফলতি ও অবহেলায় একটি সড়ক বিলীন হয়ে হতে বসেছে। দূর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে অথচ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাধারন মানুষের দূর্ভোগের কথা জানিয়ে একাধিক বার উপজেলা পরিষদের সভায় অবহিত করে সংস্কারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ অহিদুজ্জামান বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সড়ক সংস্কারে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হবে।


