গৌরনদী
তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন আজ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলেন। দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। এতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ ব্যাপক উচ্ছ্বসিত।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জহির উদ্দিন স্বপন ১ লাখ ৫৫২ ভোট পেয়ে অর্ধলক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর পর আসনটি আবার ফিরে পেল বিএনপি। ওই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এই বিজয় বরিশাল অঞ্চলে বিএনপির পুনরুত্থানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
জহির উদ্দিন স্বপনের রাজনৈতিক জীবন শুরু ছাত্ররাজনীতি দিয়ে। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ছাত্রনেতা হিসেবে ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একইভাবে জাতীয় রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিটি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জহির উদ্দিন স্বপন। এরপর ১৯৯৩ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান জহির উদ্দিন স্বপন। বর্তমানে এই পদেই আছেন।
সংসদীয় রাজনীতিতেও জহির উদ্দিন স্বপনের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ। তিনি প্রথমবার বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচেনও তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার নিয়ে জাতীয় সংসদে তৃতীয়বার যাচ্ছেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন এর আগে সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি এবং সংস্থাপন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এসব কমিটিতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জহির উদ্দিন স্বপনের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। দুবার তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। এ ছাড়া মানবাধিকার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করা বিশ্বব্যাপী আইনপ্রণেতাদের নির্দলীয় নেটওয়ার্ক ‘পার্লামেন্টারিয়ানস ফর গ্লোবাল অ্যাকশন (পিজিএ)’-এর এশিয়া অঞ্চলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব ও ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর জহির উদ্দিন স্বপনের মূল দক্ষতার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন, নীতি বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা। মন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চাই। দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে দায়িত্ব পালন করব। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ভাষ্য, অভিজ্ঞ এই রাজনীতিবিদের মন্ত্রিত্ব বিএনপির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


