গৌরনদী
আগৈলঝাড়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী সাইদুল ইসলাম মৃধাকে মৃত্যুদন্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা রায় দিয়েছে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের বিচারক আবু শামীম আজাদ । রোববার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের বাকাল গ্রামের আলতাব মৃধার ছেলে সাইদুল ইসলাম মৃধার সাথে পাশ্ববর্তি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার ফজলু কাজীর মেয়ে আয়শা আক্তারের বিবাহ হয়। বিয়ের কিছুদিন পরেই স্বামী সাইদুল ইসলাম ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য আয়শা আক্তারকে চাপ দেন এবং বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে। যৌতুকের টাকা না দেয়ায় ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর ডাবের পানির সাথে বিষ মিশিয়ে আয়শা আক্তারকে খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে স্বামী সাইদুল ইসলাম মৃধা। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর আয়শার বাবা ফজলু কাজী বাদী হয়ে জামাতা সাইদুল ইসলাম ও তার বাবা আলতাফ মৃধা , মা বিলকিসসহ ৫ জনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে আসামি সাইদুল ইসলাম ও তার মা বিলকিস বেগমকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জ গঠনের সময় আদালত বিসকিস বেগমকে মামলা থেকে অব্যহতি দেন। আদালত ২০ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক আবু শামীম আজাদ রোববার আসামী সাইদুল ইসলাম মৃধার উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে স্বামী সাইদুল ইসলাম মৃধাকে মৃত্যুদন্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানা রায় প্রদান করেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদি নিহতের বাবা ফজলু কাজী সন্তোস প্রকাশ করে বলেন, ন্যায় বিচার পেয়েছি। বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট মোঃ ফয়েজ আহম্মেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যাতে যাতে কোন ব্যক্তি যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা না করে সেজন্য এই রায় দৃষ্ঠান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষনার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।


